শবে মিরাজের চুরি করা গল্প: সেই রাতে মুহাম্মদ ও উম্মে হানির অনৈতিক রাত্রি যাপন

ইসলামের তথাকথিত মিরাজের গল্পটি মুহাম্মদের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য এবং অযৌক্তিক কাহিনীগুলির মধ্যে একটি, যা দেখায় কীভাবে তিনি চারপাশের সংস্কৃতি থেকে ধার করা উপাদানগুলি জোড়া দিয়ে তার উর্ধ আকাশে গমনের দাবিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তিগতভাবে, এটি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করে: মুহাম্মদ কথিতভাবে মক্কা থেকে জেরুজালেমে (ইসরা’) এক রাতে ভ্রমণ করেন একটি কাল্পনিক ডানাওয়ালা জন্তু বুরাকের পিঠে, তারপর জিবরীল ফেরেশতার সহায়তা ও নির্দেশনায় সাত আকাশে উঠেন (মিরাজ)।

সেখানে তিনি আদম, যিশু, মূসা প্রমুখ পূর্ববর্তী নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, বেহেস্ত এবং জাহান্নাম ভ্রমণ করেন, শাস্তি এবং পুরস্কার দেখেন, এবং এমনকি আল্লাহর সাথে দরকষাকষি করেন, মূসার পরামর্শে দৈনিক নামাজের সংখ্যা ৫০ থেকে ৫-এ নামিয়ে আনেন। এই কাহিনীটি মূলত হাদিসে বিস্তারিত বর্ণিত, কুরআনে নয় (যা শুধু সুরা ১৭:১-এ অস্পষ্টভাবে “রাত্রি ভ্রমণ” উল্লেখ করে)।

আসল কথা হল মিরাজের গল্পটি মুহাম্মদ তার চাচাতো বোন উম্মে হানির সাথে অপবিত্র সম্পর্ক গোপন করার জন্য তৈরি করেছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্র অনুসারে, মিরাজের ভ্রমণটি উম্মে হানির বাড়ি থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল তার সাথে রাত্রিযাপনের একটি অজুহাত, যা সমকালীন আরব সমাজে নিন্দনীয় ছিল। এই গল্পটি তৈরি করে মুহাম্মদ তার অসদাচরণকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করেছিলেন, যা তার নৈতিকতার অভাব এবং প্রতারণামূলক স্বভাবকে প্রকাশ করে।

পৃথিবীর ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা আরো আছে যা ইসলামি যুগের অনেক আগে বিভিন্ন সভ্যতায় বিদ্যমান ছিল, যা দেখায় যে মুহাম্মদ জরথুস্ট্রিয়ান, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান এমনকি ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা হিন্দু ধর্মের উৎস থেকে চুরি করেছিলেন, যা তিনি বাণিজ্যরত বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন।

চলুন প্রথমে দেখে নেই ইসলামের জন্মের হাজার হাজার বছর আছেও এই ধরণের মিরাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ধটনাবলী দেখে নেই। তারপর জন্য কিভাবে মুহাম্মদ আর উম্মে হানির রাত্রি যাপনকে এই গাঁজাখুরি মিরাজের গল্প দিয়ে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

১. প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান (ব্যাবিলোনিয়ান) পুরাণ: ইতানার কিংবদন্তি ইতিহাস:

প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (ইসলাম জন্মের প্রায় ৩০০০ বছর আগে) সুমেরিয়ান-আক্কাদিয়ান মহাকাব্যে, ইতানা নামক মিথে রাজা ইতানা দৈবী অনুগ্রহ চান এবং একটি ঈগলের পিঠে স্বর্গে উঠেন (বুরাকের ভূমিকার প্রতিধ্বনি)। তিনি উর্ধ্বমুখী যাত্রা করেন, পৃথিবীকে নীচে সঙ্কুচিত দেখেন, স্বর্গীয় দ্বারে পৌঁছেন, এবং আনু প্রমুখ দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করেন, এবং অন্তর্দৃষ্টি পেয়ে নেমে আসেন।

এই কাহিনীতে কোন প্রাণীর উপর আরোহন করে স্বর্গীয় প্রবেশ এবং দৈবী সাক্ষাতের দিকগুলোকে মিরাজের সাথে মিলে যায়। এই প্রাচীন ঘটনাগুলো আরব লোককথায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মুহাম্মদ কপি করেছিলেন, তার শিক্ষায় সত্যিকারের উদ্ভাবনের কোন বিষয় ছিল না।

২. গ্রিক পুরাণ: গ্যানিমিডের অপহরণ

হোমারের ইলিয়াডে (ইসলাম জন্মের প্রায় ১৩৫০ বছর আগে), ট্রোয়ান রাজকুমার গ্যানিমিডকে জিউস ঈগল রূপে বা ঈগল পাঠিয়ে অলিম্পাসে তুলে নেন। তিনি দেবতাদের সেবক হন, স্বর্গীয় রাজ্যে থাকেন। এটি মিরাজের আকাশীয় যান এবং দৈবী সাক্ষাতের সাথে মিলে যায়।

৩ হিন্দু ধর্ম: অর্জুনের স্বর্গ যাত্রা (মহাভারত)

মহাভারত মহাকাব্যে (ইসলাম জন্মের প্রায় ১০০০ বছর আগে), যোদ্ধা অর্জুন দৈবী চারিয়টে (মাতালির নির্দেশনায়) স্বর্গে (ইন্দ্রের রাজ্য) উঠেন। তিনি দানবদের সাথে যুদ্ধ করেন, দেবতাদের সাক্ষাৎ করেন, স্বর্গের আনন্দ দেখেন, দৈবী অস্ত্র শিখে ফিরেন।

৪. প্রাচীন ইহুদি গ্রন্থ থেকে

(ইসলাম জন্মের প্রায় ৯০০ বছর আগে) জানা যায় ইনোখ ফেরেশতাদের দ্বারা স্বর্গীয় যাত্রা করেন। তিনি আকাশের বিভিন্ন স্তরে উঠেন, মহাজাগতিক রহস্য দেখেন, ফেরেশতা এবং সৃষ্টিকর্তার সিংহাসন দেখেন, ধার্মিক এবং দুষ্টদের পরলোকের ভাগ্য পর্যবেক্ষণ করেন, এবং দৈবী জ্ঞান পেয়ে রূপান্তরিত হয়ে ফিরেন।

৫. ইহুদি-খ্রিস্টান অ্যাপোক্যালিপটিক সাহিত্য: ইশাইয়ার উত্তরণ

এই গ্রন্থ (ইসলাম জন্মের প্রায় ৬০০ বছর আগে) নবী ইশাইয়ার দর্শন বর্ণনা করে যাতে তিনি একটি ফেরেশতার নির্দেশনায় সাতটি আকাশে উঠেন। তিনি ধার্মিক আত্মাদের সাক্ষাৎ করেন, খ্রিস্ট এবং পবিত্র আত্মা দেখেন, স্বর্গীয় শ্রেণীবিন্যাস দেখেন, এবং আত্মাদের নরকীয় যন্ত্রণায় নেমে যাওয়া দেখেন।

৬. জরথুস্ট্রিয়ানিজম: আরদা ভিরাফের যাত্রা

এ ঘটনাটি সম্ভবত সবচেয়ে সমান্তরালভাবে মিরাজের সাথে মিলে যায়, যা ইসলামের কমপক্ষে ৪০০-৬০০ বছর আগে পারস্য জরথুস্ট্রিয়ান গ্রন্থে বিদ্যমান। আরদা ভিরাফের বইয়ে, একজন ধার্মিক যাজককে দৈবী মিশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়: তাকে একটি নেশাজাতীয় পানীয় দেওয়া হয় যাতে শরীর নিস্তেজ হয়, তার আত্মা ফেরেশতাদের নির্দেশনায় স্বর্গীয় স্তরে উঠে, দৈবী ব্যক্তি এবং ধার্মিক আত্মাদের সাথে সাক্ষাৎ করে (মুহাম্মদের নবীদের সাক্ষাতের সমান), বেহেস্ত (চিনভাত সেতু এবং আনন্দের রাজ্য) এবং দোজখ (মিরাজের মতো দৃশ্যমান শাস্তি সহ) ভ্রমণ করে, এবং মানবতার জন্য বার্তা নিয়ে ফিরে আসে, যার মধ্যে আচার-অনুষ্ঠান এবং সতর্কতা রয়েছে।

এই কাহিনী এতটাই সুনির্দিষ্ট, বহুস্তরীয় আকাশ, ফেরেশতা নির্দেশক, এবং পরলোক ভ্রমণ সহ। যুক্তিগতভাবে এই কথা বলাই যায় যে, মুহাম্মদ বা তার অনুসারীরা ইসলামের জরথুস্ট্রিয়ান পারস্যে বিস্তারের সময় এটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

ইসলাম হচ্ছে প্রথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নতুন ধর্ম, তাই এ কথা বলাই যায় যে, মুহাম্মদ পারস্য, মেসোপটেমিয়ান, জরথুস্ট্রিয়ানিজম, তৎকালীন আরবীয় ইতিহাস থেকে চুরি ধরি করে তার গল্প তৈরি করেছিলেন। মিরাজের সাথে যুক্তিগত মিল প্রায় সবগুলো ঘটনা থেকে পাওয়া যায়, যার মধ্যে বহুস্তরীয় আকাশ, ফেরেশতা, নবীয় সাক্ষাৎ, মৃত্যুর পরের জীবন ও প্রত্যাদেশী দর্শন অন্তর্ভুক্ত।

মিরাজের কাহিনী মুহাম্মদ ও উম্মে হানির মেলামেশাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য

মুহাম্মদের পিতামাতার মৃত্যুর পর তিনি প্রথমে দাদা আবদুল মুত্তালিবের এবং পরে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে থেকে বেড়ে ওঠেন। এই সময়কালে তিনি চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে একত্রে বড় হন। উম্মে হানি আবু তালিবের মেয়ে এবং সেই সূত্রে মুহাম্মদের চাচাতো বোন। তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে চাচাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিবাহকে স্বাভাবিক ভাবে বিবেচনা করা হত। কুরআনেও এই ধরনের সম্পর্ককে অনুমোদিত করা হয়েছে যেমন সুরা আন নিসা আয়াত ২৩। এই আয়াতে চাচাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় তাই এটিকে বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

ইসলামিক বিধানে পুরুষ এবং নারীর মধ্যে মেলামেশার কঠোর নিয়ম রয়েছে যা কুরআনে বর্ণিত যেমন সুরা আন নুর আয়াত ৩০ থেকে ৩১। এই বিধানে চাচাতো ভাইবোন মাহরামের তালিকায় নেই তাই তাদের মধ্যে বিবাহ বৈধ একারণে তাদের মধ্যে মেলামেশায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ইসলামী সূত্র অনুসারে, মুহাম্মদ উম্মে হানিকে দুবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং দুবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। প্রথম প্রস্তাব: নবুয়তের আগে, মুহাম্মদ তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে উম্মে হানির বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু আবু তালিব তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁকে হুবায়রাহ ইবন আবি ওয়াহবের সাথে বিয়ে দেন। এটি উল্লেখিত হয়েছে ইবন ইশাকের সিরাহ-এ (পৃষ্ঠা ১৮৪) এবং আল-তাবারীর তারিখ-এ (ভলিউম ৮, পৃষ্ঠা ১৮৬)। যুক্তিগতভাবে, এটি দেখায় যে মুহাম্মদের পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে বিশেষভাবে সম্মান করেনি, যা ইসলামের “পারফেক্ট” নবীর ধারণাকে দুর্বল করে।

মক্কা বিজয়ের সময় (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ, ৮ হিজরি) উম্মে হানির স্বামী হুবায়রাহ তাঁকে ছেড়ে যান। হুবায়রাহ ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে মুহাম্মদের ভয়ে নজরানে পালিয়ে যান, কারণ মুহাম্মদের নিয়ম অনুসারে মুসলিম নারী এবং অমুসলিম পুরুষের বিবাহ অসম্ভব হয়ে ওঠে। উম্মে হানি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এর পর পরই মুহাম্মদ দ্বিতীয়বার বিয়ের প্রস্তাব দেন । উম্মে হানি এবারও প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তাঁর ছোট ছোট সন্তানরা ছিল। এটি উল্লেখিত হয়েছে ইবন সা’দের আল-তাবাকাত আল-কাবির-এ (ভলিউম ৮, পৃষ্ঠা ১২১), আল-তিরমিজির জামি’, হাদিস ৩২১৪।

একবার ভাবুন ৩ সন্তানের মা উম্মে হানিকে মুহাম্মদ বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন মুহাম্মদের ৯ জন স্ত্রী ছিল। এমন এক ভন্ড নবীর উম্মত আপনারা, লজ্জা লাগে না?

ইবন ইশাকের সিরাহ রাসুল আল্লাহ, যা আল-তাবারীর তারিখ আল-রুসুল ওয়া আল-মুলুক এ উদ্ধৃত, বিশেষ করে ভলিউম ৬-এ। এখানে উম্মে হানি নিজের বর্ণনায় বলেন: “তিনি (মুহাম্মদ) সেই রাতে আমার বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন।”

কিছু ইসলামিস্ট প্রায়ই দাবি করেন যে ইসরা ও মিরাজের সেই রাতে উম্মে হানির সাথে তাঁর স্বামী হুবায়রাহও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের যুক্তি হলো, উম্মে হানির বর্ণনায় “আমরা” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা নাকি প্রমাণ করে যে স্বামী সেখানে ছিলেন এবং তাঁরা সকলে মিলে নামাজ পড়েছিলেন, উম্মে হানি, তাঁর স্বামী এবং মুহাম্মদ। কিন্তু ইসলামী সূত্র থেকে স্পষ্ট যে, মুহাম্মদের ভয়ে এই স্বামী পরবর্তীকালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এখন প্রশ্ন উঠে: যদি সেই লোকটি মুহাম্মদকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্ত্রীর সাথে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতেন, তাহলে মক্কা বিজয়ের পর কেন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি এবং স্ত্রীকে ছেড়ে মুহাম্মদের আতঙ্কে পালিয়ে যাবেন?

সীরাতু ইবন হিশাম-১/৪০২-৪০৩; ইবন কাছীর, আস-সীরাহ্ আন-নাবাবিয়্যাহ্-১/২৯৫ ৬. আনসাবুল আশরাফ-১/৩৬২ ৭. সীরাতু ইবন হিশাম-২/৪২০; উসুদুল গাবা-৫/৬২৮; ইবন দুরাইদ, আল-ইশতিকাক-১৫২ ৮. আ’লাম আন-নিসা-৪/১৪ বর্ণনা অনুযায়ী মক্কা বিজয়ের দিন উম্মু হানীকে দৃশ্যপটে দেখা যায়। যেমন এদিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর স্বামী মক্কা থেকে পালিয়ে নাজরানের দিকে চলে যান। স্ত্রী উম্মু হানীর ইসলাম গ্রহণের খবর শুনে তাঁকে তিরস্কার করে তার স্বামী একটি কবিতা রচনা করেন।

বেশিরভাগ ইসলামী সূত্র থেকে জানা যায় যে উম্মে হানি ইসলাম গ্রহণ করেন মক্কা বিজয়ের পরে (সীরাতুল মুস্তফা, আল্লামা ইদরিস কান্ধলবী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩) তাহলে হিজরতের আগে, যখন মুহাম্মদ মক্কায় ছিলেন, সেই সময়ে কীভাবে তাঁরা একসঙ্গে নামাজ পড়তেন? সেই রাতে উম্মে হানি তো মুসলিমই ছিলেন না! যদি নামাজ না পড়তেন, তাহলে রাতের বেলায় তারা কী করতেন?

সহীহ হাদিস মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৩১০১-[৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো বিবাহিতা নারীর নিকটে স্বামী অথবা মাহরাম ছাড়া (বিবাহ নিষিদ্ধ যাদের সাথে) কেউ যেন রাত্রি যাপন না করে। (এবং সহীহ : মুসলিম ২১৭১), মুহাম্মদ যেখানে নিজে এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কিন্তু সে নিজেই মারহাম নারীর সাথে রাত্রি যাপন করেছে।

আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, মহিলা সাহাবী, মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৯ এবং সীরাতুন নবী (সা.), ইবন হিশাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬ এর বর্ণনা অনুযায়ী ইসরা’র সেই রাতে মুহাম্মদ যখন চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, উম্মে হানি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে টেনে দেন, ফলে তাঁর পেটের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। উম্মে হানি তখন সেই পেটের সৌন্দর্য বর্ণনা করে বলেন যে, মুহাম্মদের পেট যেন মিসরীয় কিবতী ভাঁজ-করা কাতান কাপড়ের মতো ছিল। এখন বলেন একজন সৎচরিত্রের মুমিনা নারী হিসেবে উম্মে হানির জন্য একটি গায়রে-মাহরাম পুরুষের শরীরের অংশ দেখে ফেলা, তাতে মুগ্ধ হওয়া এবং তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করা কতটা ইসলামসম্মত?

মুহাম্মদের এই উন্মুক্ত পেটের সৌন্দর্যবর্ণনা তাঁর কোনো স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া যায় না; শুধুমাত্র উম্মে হানিই এতে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং একাধিকবার এটি দেখেছেন বলে দাবি করেন, সাথে তাঁর হাসির প্রশংসাও করেন। উম্মে হানি বলতেন, “আল্লাহর রাসুলের চেয়ে সুন্দর হাসি আমি আর কারও মুখে দেখিনি। আর যখনই আমি আল্লাহর রাসুলের পেট দেখতাম, তখনই আমার মনে পড়ে যেত। মক্কা বিজয়ের দিনে আমি তাঁর মাথায় চারটি বেণী বাঁধা দেখেছি।” (আল ওয়াকেদী, পৃষ্ঠাঃ ৪২৭) এই ধরনের বর্ণনা যুক্তিগতভাবে প্রশ্ন তোলে যে কেন শুধু উম্মে হানিই এমন অন্তরঙ্গ বিবরণ দেন, যা মুহাম্মদের স্ত্রীদের থেকেও অনুপস্থিত। এই বেণীর বর্ণনা কথিত সহিহ হাদিসেও পাওয়া যায়।

সহীহ শামায়েলে তিরমিযী, হাদিস ২৬। উম্মে হানী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চুলে চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি। (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৪৩০; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০৪৮৩।)

তাফসির ইবন কাসির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫১ অনুযায়ী উম্মে হানী কর্তৃক বর্ণিত রেওয়ায়েত মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ সায়েব কলবী (রা.)…. উম্মে হানী বিনতে আবূ তালেব (রা) হইতে বর্ণিত তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মি’রাজ সম্পর্কে বলেন, “যেই রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মি’রাজ সংঘটিত হয় সেই রাত্রে তিনি আমার ঘরে নিদ্রিত ছিলেন। ইশার সালাত শেষে তিনি পুনরায় নিদ্রা যান। আমরাও নিদ্রা যাই । ভোর হইবার পূর্বে আমরা রসূলুল্লাহ (সা) কে জাগ্রত করিলাম । যখন তিনি সালাত পড়িলেন এবং আমরাও তাহার সহিত সালাত পড়িলাম তখন তিনি বলিলেন হে উম্মে হানী আমি তোমাদের সহিত ইশার সালাত পড়িয়াছিলাম এবং এখন ফজরের সালাতও তোমাদের সহিত পড়িলাম। এই সময়ের মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা আমাকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত পৌছাইয়াছেন এবং পুনরায় তোমাদের নিকট পৌছাইয়া দিয়াছেন। যেমন তুমি দেখিতেছ।”

কিন্তু আবূ ইয়ালা তাহার মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আনসারী….উম্মে হানী (রা) হইতে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন এবং অধিক বিস্তারিত বর্ণনা করিয়াছেন। হাফিয আবুল কাসেম তবরানী আব্দুল আ’লা ইবনে আব্দুল মুসাভির…. হযরত উম্মে হানী হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মি’রাজের রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) আমার ঘরে ছিলেন। অতঃপর আমি তাহাকে না পাইয়া বড়ই অস্থির হইলাম এবং আমার বিনিদ্ররাত্র অতিবাহিত করিলাম ভয় হইল, কুরাইশরা তাহাকে কোন বিপদে ফেলে নাই?

বোখারী শরীফ বাঙলা তর্জমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সীরাতুন নবী সঙ্কলন, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, পঞ্চম খণ্ড, হামিদিয়া লাইব্রেরী, ১৯৭৭-৭৮ সালে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৫০৭ অনুযায়ী নবী ভোর হওয়ার অল্প আগে তার সঙ্গীসাথীদের কাছে ফিরে এসেছে। অর্থাৎ নবী তার সঙ্গীদের সাথেই তার আগে ছিলেন। ফিরে আসার পরে সঙ্গীদের মধ্যে আবু বকর জিজ্ঞেস করলেন, আপনি রাতে কোথায় ছিলেন? আবু বকর তখন সব জায়গাতেই মুহাম্মদকে খুঁজে এসেছে, কিন্তু পায়নি। অর্থাৎ মাঝখানে নবী কোথাও গিয়েছিলেন এবং পুরো প্রায় রাতই সেখানে কাটিয়ে এসেছেন। তো, আবু বকরের প্রশ্নের জবাবে নবী বললেন, তিনি সেই সময়ে বায়তুল মোকাদ্দাস ঘুরে এসেছেন।

ইসলামী বর্ণনা অনুসারে মুহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে এসেছিলেন এবং রাত্রে উম্মে হানীর ঘরেই ঘুমিয়েছিলেন। অর্থাৎ আবু বকরদের কাবার সামনে রেখে নবী উম্মে হানীর বাসায় গেলেন, উম্মে হানির সাথে কিছু করলেন, এরপরে ঘুমিয়ে গেলেন। ভোর হওয়ার আগে আবার আবু বকরদের কাছে ফিরে এসে বললেন, তিনি বায়তুল মোকাদ্দাস ঘুরে এসেছেন।

মিরাজের কাহিনীতে প্রচুর গোজামিল দেয়া হয়েছে, যা নিয়ে আলাদা একটা প্রবন্ধ লেখা হবে শিগ্রই, সে পর্যন্ত বিচার আপনারাই করুন, আপনাকে বিবেক কি বলে, মুহাম্মদ কি আকাশে গিয়েছিলো নাকি উম্মে হানিকে আকাশে তুলেছিল?

Posted in

Leave a Reply

Discover more from Secular Freethinker

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading